ক্ষমা চাইলেন গোলাম রাব্বানী

279

২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ডাকসু ভবনের নিজ কক্ষে হা’মলার শিকার হন ভিপি নুর ও তার অনুসারীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডাকসু ভবনের মূল ফটক বন্ধ করে নুরের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হা’মলা করা হয়। এছাড়া বাইরে থেকেও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল ছোড়েন।

হা’মলায় অন্তত ৩২ জন আ’হত হন। সেখানে ইন্ধন হিসেবে ছাত্রলীগ নেতাদের ইশার কাজ করেছে সে বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই। তবে তার ভেতরেই ডাকসু জিএস গোলাম রাব্বানি জানালেন ভিন্ন কথা।

আজ মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) রাব্বানি তার একটি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, চোখের সমস্যার কারণে সেদিন তিনি বাসাতেই ছিলেন এবং এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। ওই পোস্টে সেদিনের কর্মকাণ্ডের জন্য ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ক্ষমাও চান তিনি, বিডি২৪লাইভের পাঠকের উদ্দেশ্যে পোষ্টটি হুবহু তুলে ধরা হল-”আমি চোখের সমস্যার কারণে বিগত এক সপ্তাহ যাবত বাসাতেই অবস্থান করছি।

গতকাল দুপুর পৌনে একটার দিকে আমাদের ডাকসুর ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে কথোপকথন থেকে জানতে পারি ভিপি নুর গ্রুপের সাথে মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের সদস্যদের মারামারি চলছে। নূরের সাথে থাকা ৫০-৬০ জন বহিরাগত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকসু ভবনের প্রবেশ গেটে ও ভিতরে অবস্থান নিয়েছে এবং আমাদের ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক Shahrima Tanjina Arni এবং রাইসা নাসের ভিতরে আটকা পরেছে। স্বভাবতই অজানা আশংকা থেকে আমি অসুস্থতা নিয়েও ক্যাম্পাসে ছুটে যাই। যানযটে বিলম্ব হওয়ায় মারামারি শেষ হবার বেশ কিছুক্ষণ পরে ডাকসুতে পৌঁছাই।

ততক্ষণে আমাদের প্রক্টর গোলাম রাব্বানী স্যার এসে অর্নি ও রাইসাকে উদ্ধার করেন এবং মারামারিতে আ’হতদের নিজ দায়িত্বে ডিএসসিতে পাঠান।সেখানে উপস্থিত কয়েকটি মিডিয়া উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে শুরুতে বলি, ‘আমি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলাম না। মারামারির আদ্যোপান্ত আমার আমার জানা নেই। তবে ভিপি নূর হা’মলা বা ঘটনার বিষয়ে ডাকসুর কারো সাথে কথা না বলে ৫০-৬০ জন বাহিরাগত এনে যেভাবে ডাকসু ভবন অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং যেখানে যে অরাজকতা হয়েছে, সেগুলো মেনে নেয়া যায় না।

নূর আ’হত না নি’হত মুখ্য না, সে কাউকে না জানিয়ে ডাকসুতে বহিরাগত নিয়ে এসে কেন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করলো?’ ডাকসুর দুই ছোটবোন অবরুদ্ধ থাকা নিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ থেকেই মন্তব্যটি করেছিলাম, যা ডাকসুর জিএস হিসেবে আমার বলা উচিত হয় নাই। সেজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে উক্ত ঘটনায় বরাবরের মতই, ছাত্রলীগকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন ও ঢাবির সিনেট সদস্য সঞ্জিত চন্দ্র দাস মারামারির কথা শুনে ভিপি নুরকে উদ্ধার করতে সেখানে গিয়েছিলো।

নুরের সাথে থাকা সহযোগীদের অসৌজন্যমূলক আচরণে ও তীর্যক মন্তব্যে তারা ফিরে আসে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।তবুও যা ঘটেছে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। উক্ত অনভিপ্রেত ঘটনায় যারা হতাহত হয়েছে তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়ার আহবান জানাই।

Loading...
CopyAMP code