ঘুষের নতুন নাম হয়েছে ফেয়ার শেয়ার : ফখরুল

72

স্টাফ রিপোর্টার:দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতাকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা উল্লেখ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরও অপসারণ দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “কাজের বিনিময় ঘুষ চাওয়া হয়, এর নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফেয়ার শেয়ার’। এই ফেয়ার শেয়ারের মধ্যে আবার এখন ভাইস চ্যান্সেলরের নামও চলে এসেছে। তাই শুধুমাত্র দুই ছাত্রনেতার অপসারণ হলে ভাইস চ্যান্সেলর কি হবে? দ্রুত তার পদত্যাগ করা উচিত, না হয় তাকে অব্যাহতি দেওয়া দরকার।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে আমার কাছে একটি নতুন তথ্য আছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালযয়ে যে ঘুষ চাওয়া হয়েছে, তাকে নতুন নাম দিয়েছে তারা। কি দিয়েছে বলুন তো? ফেয়ার শেয়ার! ৫-১০শতাংশ ঘুষ যে নেবে, এটা হলো ফেয়ার শেয়ার। এই ফেয়ার শেয়ারের মধ্যে আবার এখন ভাইস-চ্যান্সেলরের নাম চলে এসেছে। উনি নাকি ইতোমধ্যে এক কোটি টাকাও দিয়ে দিয়েছেন। দ্রুত তার পদত্যাগ করা উচিত, না হয় তাকে অব্যাহতি দেওয়া দরকার।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনারের বক্তব্য তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমাদের পুলিশ কমিশনার ভালো ভালো কথা বলেছেন। তার একটা কথা আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে, ‘যদি কোনও থানার ওসি কোনও কাজ না করে এবং সেবার বিনিময়ে যদি কোনও অর্থ দাবি করে, তাহলে আমাদেরকে জানাবেন, আমরাই গিয়ে সেখানে বসবো।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ইটস এ রিকগনিশন অব দ্য করাপশন। ছাত্রলীগের দুই নেতাকে বের করে দিয়ে তারা স্বীকার করেছেন যে- করাপশন চলছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হাজার চেষ্টা করে থলের বিড়াল ঢেকে রাখা যাচ্ছে না। কালো বিড়ালের মতো সব বের হয়ে আসছে এবং এগুলো এখন জনগণের কাছে পুরোপুরি চলে গেছে।তিনি বলেন, যারা মিথ্যা বলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে, ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় বসে, তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনও অধিকার নেই। এটা অবৈধ সরকার, এই পার্লামেন্ট অবৈধ। সুতরাং অবিলম্বে পার্লামেন্ট বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে একটি নতুন নির্বাচন করতে হবে। সে নির্বাচনে নতুন সরকার ও নতুন পার্লামেন্ট গঠন হবে, এই হচ্ছে জনগণের আজকের দাবি।

বিএনপির মহাসচিব অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানান। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের প্রতীক খালেদা জিয়াকে আইনসম্মতভাবে যে জামিন পান তা দিতে হবে। কেন তাকে আটকে রেখেছেন এত ভয় পান কেন? ছাত্রদলের কাউন্সিল নিয়ে একটি নাটক করলেন কেন? তাহলে গণতন্ত্রকে আপনারা চলতে দিতে চান না। যারা গণতান্ত্রিকভাবে কাজ করতে চায়, তাদেরকে আপনার কাজ করতে দিতে চান না। তাদের পথকে আপনারা বন্ধ করে দিতে চান।আসামের নাগরিক পঞ্জি ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘আমরা ভারত সরকারকে বিশ্বাস করতে চাই।’ তবে আমরা উদ্বিগ্ন। ধিক্কার জানাই এই নতজানু পররাষ্ট্র নীতিকে, ধিক্কার জানাই এই মানসিকতাকে। আমার দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব যদি এক বিন্দু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাংলার মানুষ কোনোদিন তা মেনে নেবে না। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে ১৯৭১ সালে, স্বাধীনতা রক্ষার জন্য দরকার হলে আমরা আরও বড় যুদ্ধ করবো। আজকের শেষ কথা হলো বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, গণতন্ত্রের মুক্তি দিন। তা না হলে ইতিহাসের পাতায় যে পরিণতি লেখা আছে, সে পর্যন্তই বহন করার জন্য প্রস্তুত থাকুন।

আজকে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না এমন দাবি করে তিনি আরও বলেন, কিসের এত ভয়? ফ্যাসিবাদের ভয়। কথা বললেই তুলে নিয়ে যাওয়া হবে, কথা বললেই মামলা হবে। তিনি বলেন, যারা আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবী আছেন, অধ্যাপক আছেন, যারা বিভিন্ন জায়গায় যান, তারা আজ কথা বলার কোনও সাহস করেন না। কারণ, তাদের কখন রাতে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে তারা জানেন না।তিনি বলেন, এটি একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রকে শুধু স্বৈরাচারের সঙ্গে তুলনা দেওয়া চলে, অন্য কিছুর সঙ্গে এর তুলনা চলে না। সেদিন সেলিম সাহেব খুব সুন্দর একটা কথা বলেছেন, যে এখন রাজনীতিবিদরা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন না, রাষ্ট্রই রাজনীতিবিদদের পরিচালনা করছেন। এটা একটি সত্য কথা, পলিটিক্স এখন রাজনীতিবিদরা চালান না, রাষ্ট্রর বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা এখন রাজনীতি পরিচালনা করে। এটা এখন বাস্তবতা, এটাই সত্য। এই সত্যকে উপলব্ধি করে জনগণকে তাদের অধিকার রক্ষার জন্য দাঁড়াতে হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানের (বীর প্রতীক) সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সঞ্চলনায় মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা প্রমুখ।