সরকার সুপরিকল্পিভাবে বিরোধী দল বিলীনের কাজ করছে : ফখরুল

92

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদে বুধবারের প্রশ্ন-উত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘শুধু বিএনপি নয়, দেশে যেন কোনও বিরোধী দল না থাকে, ভিন্নমত না থাকে, সব বিলিন হয়ে যায়, সে জন্যই সুপরিকল্পিতভাবে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’ বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ১২ দিনের মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গতকাল প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না, করলে বিএনপির অস্তিত্ব থাকতো না। এই কথাটি  বলতে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কি এটাই বোঝাতে চেয়েছেন, আসলে তারা অস্তিত্ব রক্ষা না করার জন্যই কাজ করে যাচ্ছেন?

বিএনপি মহাসচিব  বলেন, ‘এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে,  ভিন্নমত পোষণ করা যাবে না। গণতান্ত্রিক দেশে এটা থাকতে পারে যে, বাবা একটি দলের রাজনীতি করতে পারেন, আমি আরেকটা রাজনীতি করতে পারি। ছাত্র জীবনে আমি এক দলের রাজনীতি করেছি, আমার বাবা আরেক দলের রাজনীতি করেছেন। কখনও সমস্যা হয়নি। না আমার বাবার সমস্যা হয়েছে,  না আমার হয়েছে।

গোটা বাংলাদেশ ও সমাজকে বিভক্ত করে ফেলা হয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ডিভাইডেড সোসাইটি। দেখবেন, এমন একটা অবস্থা হয়েছে যে, এখন কেউ কারও বাসায় যেতে চান না। ভিন্ন দল করলে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে তো দূরের কথা, দাওয়াত-টাওয়াত দিলেও কেউ কারও বাসায় যেতে চান না। ভাবেন, কেউ বুঝি আবার দেখে ফেলে!  আবার চাকরি চলে যায় নাকি, সেই আশঙ্কাও থাকে।

উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে রাষ্ট্রবিরোধী কিছু ভূমিকা পালন করছে। সেই ভূমিকার অন্যতম হচ্ছে সংবিধান লঙ্ঘন করা।  জুডিশিয়ারির ইন্ডিপেন্ডেন্টের কথা সংবিধানে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে। সেই ইন্ডিপেন্ডেন্ট এখন আদালতে নেই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকে শুরু করে একজনও নেই, যাদের বিরুদ্ধে ৪০/৫০/১০০টা মামলা নেই। আমরা ঠিক বুঝি না, এটাকে কীভাবে গণতান্ত্রিক স্টেট বলবো?’   
মির্জা ফখরুল বলেন,আমাদের সেতুমন্ত্রী খুব সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। তিনি বলেন, এখন সড়ক খুব নিয়ন্ত্রণে আছে। প্রতিদিন ১০ জনের বেশি  সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ যাচ্ছে। কারণটা কেউ খেয়াল করে দেখেছেন? বেশিরভাগ বলা হয় চালকদের সমস্যা।

কেন?’ তিনি বলেন, আমি যেটা জানি, দূরপাল্লার যে কোচগুলো যায়, নিয়ম হচ্ছে একটি গাড়িতে দুই জন ড্রাইভার থাকবেন। ১০ ঘণ্টার পথ হলে একজন ৫ ঘণ্টা, আরেক ৫ ঘণ্টা চালাবেন।কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, অঙ্গসংগঠনের নেতা সালাউদ্দিন টুকু, হারুনুর রশীদ, আবদুস সালাম, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, হাছিন আহমেদ, সুলতান সাদেক আহমেদ খান, আবদুল হালিম, সুলতানা আহমেদ, রফিকুল ইসলাম মাহতাব, শাহ নেছারুল হক, নজরুল ইসলাম মজুমদার, মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, আবুল কালাম আজাদ, মজিবুর রহমান প্রমুখ।