‘ঢাবি’র বাস-ড্রাইভারদের অবস্থা এরকম কীভাবে হয়?’

262

আজ বিকেল ৪.১০ এর কিঞ্চিৎ বাস মগবাজার ওয়্যারলেস যাওয়ার পথে ড্রাইভারের অনিয়ন্ত্রিত বাস চালানোর ফলে ফুল স্পীডের বাস মগবাজার ফ্লাইওভারের উপরের পিলারের সাথে ধাক্কা লেগে বাসের দোতালার একটা পাশ পুরো স্ম্যশড হয়ে যায়।

ভাঙ্গা কাচের সাথে লেগে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথা ও হাত কেটে যায়। তাদেরকে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়।
আল্লাহর অশেষ রহমতে আশংকাজনক আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি কেউ। তবে উপস্থিত সবাই বুঝতে পেরেছিলো এই এক্সিডেন্টের ভয়াবহতা।
বাসের দোতালার সামনের সিটগুলো আগেই খালি না হয়ে গেলে আজ কয়েকটি জীবন শেষ হয়ে যেতে পারতো!”

লোকাল বাসের কথা না হয় বাদই দিলাম ;কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত একটা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়োজিত বাসগুলোর ড্রাইভারদের অবস্থাও যদি এরকম হয় তাহলে আমরা কীই বা বলতে পারি?

এত বড় একটা প্রতিষ্ঠানের বাস ড্রাইভারদের অবস্থা এরকম কী করে হয়!?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়ার জন্য বিভিন্ন রুটে নিজস্ব কয়েকশো বাস আছে।
বেশিরভাগ রুটের বাসেই একদিন করে হলেও আমি উঠেছি,’কিঞ্চিৎ’ বাসের ডাউন ট্রিপে তো নিয়মিত যাই!

কিছু ড্রাইভার বাস চালানোর সময় এমনভাবে ব্রেক করে যে হুমড়ি খেয়ে পরে দাত-মুখ ভাঙার উপক্রম হয়
অবশ্য ২০১৭ সালে রাস্তার উল্টা পথে বিভিন্ন বাস চালানো নিয়ে যখন খুব কথা উঠেছিল তখন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ড.রুশদ ফরিদী স্যার ‘ উল্টো দিকে কি শুধুই বাস?’ শিরোনামে একটি কলাম লিখেছেন! যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস অহরহ উল্টোপথে যাওয়ার উদাহরণ টেনেছিলেন এবং বোঝাতে চেয়েছিলেন যে শুধু বাস না বরং আগের প্রশাসনের নেতৃত্বে অনৈতিক কার্যকলাপের ফলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় উল্টো দিকে যাচ্ছে!!

এই কলামটি লেখার পর বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করে স্যারকে কীভাবে হেনস্থা করা হয় সেটা আমরা মোটামুটি জানি!!

যাই হোক, ভাগ্য সহায় না হলে আজকের বাসের ড্রাইভারের কারণে মারাত্মক কিছু একটা হয়ে গেলে নিউজে হেডলাইন আসতো ” বাস দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যু।

লেখিকা:
সহ-সাধারণ সম্পাদক
শামসুন নাহার হল সংসদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Loading...
CopyAMP code