ছাত্রলীগকে ফেসবুক থেকে আনফ্রেন্ড করুন : সালমান সিদ্দিকী

316

স্টাফ রিপোর্টার: ছাত্রলীগকে ফেসবুক থেকে আনফ্রেন্ড করুন: সালমান সিদ্দিকী
রবিউল ইসলাম,সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্কসবাদী বাসদ সমর্থিত) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেছেন, স’ন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে প্রথমে ছাত্রলীগকে বেরিয়ে আসতে অনুরোধ করুন। যদি না শুনে তাহলে তাদের বয়কট করুন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ছাত্রলীগকে সামাজিকভাবে, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বয়কট করুন। ফেসবুকে একজন স’ন্ত্রাসী কখনোই আপনার বন্ধু হতে পারে না, তাদেরকে আনফ্রেন্ড করুন।

রোববার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর ও তার অনুসারীদের ওপর হা’মলা চালায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতাকর্মীরা। হা’মলায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। ওই হা’মলায় নুরসহ অন্তত ৩০ জন আ’হত হন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স’ন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে ‘স’ন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র ঐক্যের’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশে সালমান সিদ্দিকী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,  ছাত্রলীগ একের পর স’ন্ত্রাসী কর্মকান্ড সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চালিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মধ্যে দিয়ে গতকাল যে ডাকসু ভবনে ভিপি নুরদের উপর স’ন্ত্রাসী হা’মলা হয়েছে, তার প্রতিবাদের ভাষা আমার জানা নেই।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ বিশ্বাস করে না মন্তব্য করে সালমান সিদ্দিকী বলেন, আজকে গণতান্ত্রিক দাবিতে কথা বললেই হ’ত্যা করা হচ্ছে, জেলে-রি’মান্ডে নেওয়া হচ্ছে।

এখন অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে জামায়াত-শিবির আখ্যা দেওয়া হয়, বলা হয় স্বাধীনতা বিরোধী। কিন্তু আমরা বলতে চাই ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ যে কর্মকান্ড করছে সেটি কখনোই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হতে পারে না। যদি তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিশ্বাস করত তাহলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এভাবে হা’মলা চালাতে পারত না।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ শান্তির স্লোগান দিলেও আমরা জানি তারা আসলে কি করছেন। ছাত্রলীগ মুখে বলছে শান্তি, কিন্তু সত্যিকার অর্থে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অশান্তি তৈরি করছে, স’ন্ত্রাসী কর্মকান্ড তৈরি করছে তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সমালোচনা করে এই ছাত্রনেতা বলেন, মিথ্যাচার বন্ধ করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের প্রতিষ্ঠান, এটি জনগণের টাকায় চলে। এখানে ৫২ থেকে শুরু করে যতগুলো গণআন্দোলন হয়েছে সবাই কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে অংশগ্রহণ করেছে।

“এই বিশ্ববিদ্যালয় সকলের জন্য উন্মুক্ত। এখানে রাজনীতি চলবে, স’ন্ত্রাসী চলবে না। কিন্তু আমরা দেখছি, যারা রাজনীতি করছে তাদের প্রতিহত করতে স’ন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর যারা স’ন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে তাদের মদদ দিচ্ছে। এই অবস্থা চলতে দিতে পারি না।

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সালমান সিদ্দিকী বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের স’ন্ত্রাসী কার্যকম চলতেই থাকবে।