স্ত্রীর বোনের মেয়েকে অ’পহরণের পর জোরপূর্বক ধর্ষ’ণ, বহুরূপি প্রতারক রাজিব

534

স্ত্রীর বোনের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে অ’পহরণের পর জোরপূর্বক ধর্ষ’ণের ঘটনায় বহুরূপি প্রতারক মো. রাজিব হোসেনকে (২৮) গ্রে’প্তার করেছে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।

কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার এস আই মো. রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, গত ৮ অক্টোবর চড়াইল নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কোচিং শেষে বিকেল ৪টায় নিজ বাড়ি ভাঙনা মুজিব নগর এলাকায় ফেরার পথে রাস্তায় অপহরণ হয় ওই ছাত্রী। অ’পহরণের পরের দিন ছাত্রীর মা সোনিয়া আক্তার বাদী হয়ে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে (মামলা নং- ২২)।

এর তিন দিন পর ১০ অক্টোবর তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অপহৃত ওই ছাত্রীকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অ’পহরণকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। উদ্ধারের পর ওই ছাত্রীকে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হওয়ার পর ওই ছাত্রী জানান, তাকে অপহরণ করে তারই আপন খালু মো. রাজিব। শুধু তাই নয় অপহরণের পর তাকে একাধিকবার তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধ’র্ষণও করে তার খালু রাজিব।

এস আই মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে জানতে পারি আসামি রাজিব তার সাথে আরো ছয়-সাতজন সন্ত্রাসী নিয়ে কেরাণীগঞ্জের কোনাখোলার দিকে যাচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা কেরাণীগঞ্জ-দোহার-নবাবগঞ্জ সড়কের ডায়মন্ড মেলামাইন কারখানার সামনে ভাঙ্গা ব্রিজের উপর অবস্থান নেই। আসামি রাজিব ব্রিজের নিকট আসলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। এতে করে আমি নিজে ও সঙ্গীয় এস আই সাইদুজ্জামানসহ ও দুই কনস্টেবল আহত হয়। এক পর্যায়ে আমরা রাজিবকে গ্রেপ্তার করলে তার সাথের সঙ্গীরা পালিয়ে যায়।

রাজিবের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হা’মলা করার অপরাধে এস আই সাইদুজ্জামান বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। পরে তাকে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রাজিবের গ্রামের বাড়ি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার কদমতলী খালপাড় এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত আজাদ মিয়া। তিনি পেশায় একজন মাদক কারবারি ছিলেন। বাবার সাথেই রাজিব ও তার ছোট ভাই রাশেল বাড়িতে বসে মাদকের ব্যবসা করতেন। এ জন্য রাজিবের বাবা আজাদ ও ছোট ভাই রাশেল পুলিশের হাতে কয়েকবার ধরা খেয়ে জেল খেটেছেন। পিতা মারা যাওয়ার পর রাজিব কদমতলীর বাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় থেকে প্রতারণার আশ্রয় নেন। ছোট ভাই রাশেল রয়েছে এ অপহরণ মামলায় কারাগারে। রাজিবের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ২টি মাদক মামলও রয়েছে। রাজিবের প্রথম স্ত্রী সাথী আক্তার দুই সন্তানের জননী। ২য় স্ত্রী ভিকটিমের খালা তানিয়া আক্তার।

কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের জানান, আসামি রাজিবের ব্যাপারে এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পেরেছি সে একজন বহুরুপী প্রতারক। সে একাধিক বিয়ে করেছে। ঘরে তার দু’জন স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও সে তার ২য় স্ত্রীর বড় বোনের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করেছে।

তিনি আরও জানান, সে কখনো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সম্পাদক আবার কখনো ঢাকা জেলা হকার্স লীগের সাধারণ সম্পাদকের পরিচয় দিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করতো। ডিআইজি হাবিব স্যারের সাথে ছবি তুলে মানুষকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে। মূলত প্রতারণা করাই ছিলো তার মূল পেশা। তার সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য বিজ্ঞ আদালতের কাছে আবেদন করা হবে।