দরিদ্রদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও ইউপি সদস্য!

64

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সহায়তা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যের বিরুদ্ধে। দিনের পর দিন সহায়তা বা টাকা কোনোটাই না পেয়ে বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম রইছ উদ্দিন। তিনি ‍উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের একজন সদস্য।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।’
এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক একে এম গালিভ খান জানান, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিনকে বরখাস্ত করার সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে দু-এক দিনের মধ্যেই পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শত শত অসহায়-দরিদ্র মানুষকে বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতাসহ সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিন। একেকজনের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। এর বিনিময়ে কোনো সুযোগ-সুবিধা তো দেয়নি, উল্টো টাকা ফেরত চাইলে নানা হুমকি-ধামকি ও মারধর করা হয় তাদের। রইছ উদ্দিনের ফাঁদে পড়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকেই।

ভুক্তভোগী এক নারী বলেন, ‘মেম্বরে আমার থেকে ২২ হাজার টাকা নিছে। ঘর বাইন্ধে দিবে, প্রতিবন্ধী কার্ড বানাইয়া দিব বলে।’
এক বৃদ্ধা বলেন, ‘রইছ উদ্দিনের হাতে ধরছি, পাই ধরছি, সে আমারে টাকাটা দিল না।’
আরেকজন বলেন, ‘আমি যদি টাকা চেয়ে বিচার চাই, তাইলে নাকি আমার নামে কেস হয়ে যাবে, হুমকি দেহায়।’

এ ঘটনায় ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিনের বিচার ও টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোদাব্বিরুল ইসলাম বলেন, ‘ইউএনও মহোদয়কে বলেছি আইনগত ব্যবস্থা যা যা নেওয়ার দরকার নিতে।’
স্থানীয় একজন বলেন, ‘৭০ লাখের মতো টাকা সে মানুষের থেকে নিয়েছে।’ আরেকজন বলেন, ‘শত শত মানুষের কাছ থেকে টাকা নিছে। এর আমরা বিচার চাই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে, তদন্ত কর্মকর্তা এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিন তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখে গা-ঢাকা দিয়েছেন।
এ ব্যাপার ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান আকন্দ জানান, ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কথা শুনেছি। অভিযোগ পেলে গ্রেপ্তারসহ তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ