নুসরাত হত্যার রেষ না কাটতেই এবার স্কুল ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা

44

রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামের দশম শ্রেণীর ছাত্রী জুথি খাতুনকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রধান আসামী শিল্পী বেগমসহ দুই জনকে সদর থানা পুলিশ।

রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার জানান, ইতিমধ্যেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও মামলার প্রধান আসামী শিল্পী বেগম ও তার ভাগিনা সেতু (২৪) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। ওসি আরো জানান,মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশে অন্য দু’টি দল।

শনিবার দিবাগত গভীর রাতে খানখানাপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। আটককৃত সেতু ঐ গ্রামের বাবলু’র ছেলে। সে মামলার প্রধান আসামি শিল্পী বেগমের বোনের ছেলে।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুন দুপুরে ওই স্কুল ছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে পার্শ্ববর্তী পাট ক্ষেতে নিয়ে মুখ, হাত-পা বেঁধে গায়ে আগুন দিয়ে নুসরাত ষ্টাইলে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে বোরকা পরিহিত চার জন দুর্বৃত্ত। এ সময় ওই ছাত্রীর পরিবারের লোকজন টের পেয়ে চিৎকার করলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় শনিবার সকালে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় প্রতিবেশী শিল্পী বেগমের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।


বোরকা পরে গত বৃহষ্পতিবার প্রকাশ্যে দুপুরে বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রী জুথি খাতুনকে (১৬)-এর হাত, পা ও মুখ বেঁধে নুসরাত ষ্টাইলেই পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা চালায়।

ওই অভিযোগে গত শনিবার সকালে ঘটনার স্বীকার ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সদর উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মিজির স্ত্রী শিল্পী বেগম (৪০) এবং তার সহযোগি অজ্ঞাত নামা আরো চার জন আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।দগ্ধ কিশোরী খানখানাপুর তমিজউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

মামলার বাদী ওই ছাত্রীর বাবা ফজলুর রহমান বেপারী আরো জানান, গত ১২ এপ্রিল দুপুরে তার মেয়ে সদর উপজেলার খানখানাপুর থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির রিকশায় নিজ বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তার রিকশাটি পাশ^বর্তী দেওয়ানপাড়া মোড়ে পৌছলে অজ্ঞাত নামা চার জন ব্যক্তি তার গতিরোধ করে।

সেই সাথে ওই ব্যক্তিরা মেয়েকে টেনে হেঁচড়ে পাশের জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে চাকুর ভয় ও মারপিট করে জোরপূর্বক তার অশ্লিল ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করে এবং ওই ছবি আসামি শিল্পীর কাছে পৌছে যায়। পরবর্তীতে আসামি শিল্পী বেগম ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবার ভয় দেখিয়ে তার মেয়ের কাছে দুই লাখ টাকা দাবী করে।

গত ৩ জুন দুপুরে শিল্পী বেগম ও তার আরো দুই জন সহযোগি বসত বাড়ীতে আসে এবং জানালা দিয়ে মেয়েকে ডেকে ঘরের বাইরে আনে। সেই সাথে অশ্লিল ছবি পুনরায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবার ভয় দেখিয়ে মেয়েকে তার এক ছেলে বন্ধু রাজু (২২)-এর বাড়ীতে নিয়ে যায় এবং ওই ছেলে বন্ধু’র কাছে আসামিরা আড়াই লাখ টাকা দাবী করে মেয়েকে ওই বাড়ীতে রেখে চলে যায়।

পরবর্তীতে ওই ছেলে বন্ধু’র পরিবারের সদস্যরা মেয়েকে আসামি শিল্পীর বাড়ীতে নিয়ে আসে এবং তাদের (মেয়ের) পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি অবহিত করে। ওই সময়ই তিনি গিয়ে শিল্পীর বাড়ী থেকে মেয়েকে বাড়ীতে নিয়ে আসেন

এ ঘটনার পর দিন গত বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মেয়ে নিজ বাড়ীর বারান্দায় বসে জাম খাচ্ছিল। সে সময় ওই বাড়ীতে অজ্ঞাত নামা বোরকা পরিহিত চার জন ব্যক্তি প্রবেশ করে।

তারা মেয়ের মুখ চেপে ধরে বাড়ীর পেছনে থাকা একটি পাট ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে যায়। তারা মেয়ের ওড়না দিয়ে তার হাত, পা ও মুখ বেঁধে খুন করার উদ্দেশ্যে শরীরের মাঝামাঝি স্থানে থাকা স্যালোয়ার কামিজে ম্যাচ কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এতে শরীরর সামনের অংশে সামান্য আকাড়ে পোড়া জখম হয়। মেয়ে তখন জীবন রক্ষার্থে মাটিতে গড়াগড়ি করে। মেয়ের গোংড়ানির শব্দে তার স্ত্রীসহ প্রতিবেশিরা এগিয়ে যায় এবং তার শরীরের আগুন নেভায়। পরে তাকে স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

প্রতিবেশীরা জানান, ওই মেয়ে ও তার মা’য়ের চিৎকার শুনে তারা এগিয়ে আসেন এবং মেয়েটিকে উদ্ধার করেন।

সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী আলমগীর জানান, শিল্পী বেগমের চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ ভালো নয়। শিল্পী বেগম ভালো মানুষ নন। তাকে এলাকার মানুষ ভয় পায়। দিন রাত তার কাছে নানা ধরণের মানুষ আসে। যে কারণে তাকে কেউ কিছু বলার সাহস পায়না।তাছাড়া যে ঘটনা ঘটনানো হয়েছে, তা একটি নেক্কার জনক ঘটনা।

অল্পের জন্য মেয়েটা প্রাণে বেঁচেছে। তাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে