লঞ্চ দুর্ঘটনার তদন্তের দাবি নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের

17

সদরঘাটের শ্যামবাজারে লঞ্চ দুর্ঘটনায় নি’হতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শাহ আলম ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম।
নেতৃবৃন্দ মৃত্যুবরণকারীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।


তারা বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা কোনো অবস্থায় মেনে নেয়া যায় না। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে কারণ নির্ণয় এবং দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
নেতৃবৃন্দ শ্রমিক-মালিক ব্যবস্থাপনা ও তদারকির কাজে নিয়োজিত কর্তৃপক্ষের যারই দুর্বলতা থাকুক তা চিহ্নিত করা এবং সবাইকে তার দায়িত্ব পালন ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

এর আগে সকাল ১০টায় এ লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চাঁদপুর রুটের ময়ূর-২ নামের একটি লঞ্চের ধাক্কায় কমপক্ষে ৫০ যাত্রী নিয়ে ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রুটের মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে পুরুষ ১৯ জন, নারী ৮ জন এবং ৩ জন শিশু রয়েছে। বাকি দুজনের বিষয়ে এখনও জানা যায়নি।

পরিচয় পাওয়া মৃত ৩০ জনে হলেন- সত্যরঞ্জন বনিক (৬৫), মিজানুর রহমান (৩২), শহিদুল (৬১), সুফিয়া বেগম (৫০), মনিরুজ্জামান (৪২), সুবর্ণা আক্তার (২৮), মুক্তা (১২), গোলাম হোসেন ভুইয়া (৫০), আফজাল শেখ (৪৮), বিউটি (৩৮), ছানা (৩৫), আমির হোসেন (৫৫), মো. মহিম (১৭), শাহাদাৎ (৪৪), শামীম ব্যাপারী (৪৭), মিল্লাত (৩৫), আবু তাহের (৫৮), দিদার হোসেন (৪৫), হাফেজা খাতুন (৩৮), সুমন তালুকদার (৩৫), আয়শা বেগম (৩৫), হাসিনা রহমান (৪০), আলম বেপারী (৩৮), মোসা. মারুফা (২৮), শহিদুল হোসেন (৪০), তালহা (২), ইসমাইল শরীফ (৩৫), সাইফুল ইলাম (৪২), তামিম ও সুমনা আক্তার।

লঞ্চটি থেকে কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠলেও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ ছিলেন। পরে নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
স্থানীয়রা আরও জানান, মুন্সিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা দুইতলা মর্নিং বার্ড লঞ্চটি সদরঘাট কাঠপট্টি ঘাটে ভেড়ানোর আগ মুহূর্তে চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ লঞ্চটি ধাক্কা দেয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে তুলনামূলক ছোট মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়।
এফএইচএস/বিএ/জেআইএম