প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নগদ টাকা থেকে ৫০০ টাকা ঘুষ না দেয়ায় পিটিয়ে নারীর হাত ভাঙল আ’লীগ নেতা!

512

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তার তালি۷0ায় নাম তুলে দেওয়ার বিনিময়ে এক সাধ্বী নারীর কাছ থেকে  ৫০০ টাকা বখরা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়
ইউপি সদস্য খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে।


ওই ইউপি সদস্যের ছেলে খায়েশ মিয়া এ টাকা দাবির পর তা দিতে না পারায় ওই নারীর ডান হাত পি’টিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নির্যাত’নের শিকার হওয়া নারীর নাম কল্পনা রানী দাস ওরফে আল্পনা।

গত ১০ জুন রাতের এই ঘটনায় আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে আহত আল্পনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন কল্পনা রানী দাস।সাধ্বী কল্পনা রানী দাস ওরফে আল্পনার লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আমিরপড়ার গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা ও বিমল চন্দ্র দাসের স্ত্রী তিনি। অত্যন্ত গরিব হওয়ায় ওই এলাকার একটি শশ্মানের ভেতরে একটি কক্ষে স্বামীসহ চার সন্তান নিয়ে বসবাস করেন।


প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তা দিচ্ছেন এ খবর জানার পর তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আশায় স্থানীয় ইউপি সদস্য আওয়াল মিয়ার কাছে যান তিনি। কিন্তু আওয়াল মিয়া তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করেননি। হতাশ হয়ে পাশের ওয়ার্ডের আরেক ইউপি সদস্য খোরশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তার আড়াই হাজার টাকা প্রদানের কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস তাকে দেন খোরশেদ আলম। বিনিময়ে টাকা পেলে সেখান থেকে ৫শত টাকা বখরা দেওয়ার প্রস্তাব দেন খোরশেদ। বাধ্য হয়ে আল্পনা এই প্রস্তাবে রাজি হন।

কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তা দেওয়া দুই হাজার পাঁচশত টাকা আল্পনার মোবাইল ফোনে আসেনি।আল্পনার লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১০ জুন রাত ৯টার দিকে তাকে মজলিশপুর নৌকাঘাটে ডেকে নিয়ে যান ইউপি সদস্য খোরশেদের ছেলে খায়েশ মিয়া। সেখানে যাওয়ার পর খায়েশ মিয়া তার কাছে প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তার তালিকায় নাম ওঠানোর জন্য ওই ৫শ’ টাকা দাবি করেন। এ সময় আল্পনা এখনও তার মোবাইল ফোনে টাকা আসেনি বলে জানান। ভয় পাওয়ায় টাকা এলে দিয়ে যাবেন বলেও জানান।

কিন্তু খায়েশ মিয়া এই কথা শুনতে রাজি হয়নি। বরং লাঠি দিয়ে মা’রধর শুরু করেন তাকে। মা’রধরে আল্পনার ডান হাত ভেঙে যায়। আর বাম হাতের কনুইয়ের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত রক্তজমাট বেঁধে যায়। পরে তার ১০ বছরের শিশু এগিয়ে গিয়ে মাকে উদ্ধার করেন।

এ ব্যাপারে মা’রধরের শিকার আল্পনা জানান, মেম্বারের দাবি মতো ৫শ’ টাকা না দিতে পারায় মেম্বারের ছেলে মা’রধর করে তার হাত ভেঙে দিয়েছে। বাম হাতেও ব্যথা আছে। হাতের যে অবস্থা এতে আগামী তিন-চার মাস কাজ করতে পারবো না। তিনি বলেন, তিন বেলা খাবার না জোগাড় করতে পারলে সন্তানেরাও না খেয়ে মারা যাবে। ওই নারী জানান, ওই ঘটনার পর ওই রাতেই (১০ জুন) তার স্বামী ও ছেলে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ভর্তি করে হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে দেন চিকিৎসকরা।

পরদিন তাকে রিলিজ দেওয়া হয়।তবে ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তা দেওয়ার তালিকার বিষয়ে ওই মহিলার সঙ্গে আমার কোনও কথা হয়নি। আমি এমন কোনও তালিকা দেইনি। এই অভিযোগ সত্য নয়। তিনি আরও দাবি করেন, ওইদিন রাতে ঢাকা যেতে নদী পার হওয়ার সময় ধাক্কাধাক্কিতে হয়তো পড়ে যাওয়ায় ওই মহিলার হাত ভেঙে গেছে। ঢাকা থেকে ফিরে তার বাসায় গিয়েছি। তাকে চিকিৎসার জন্য টাকাও দিয়েছি।

বিষয়টি সমাধানের জন্য ডাকা হলেও ওই মহিলা আসেননি। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য মজলিশপুর ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, মা’রধরের অভিযোগটি পেয়েছি। অবশ্যই এ বিষয়ে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।