১৫ বছরের কিশোরকে গাছের সাথে বেঁধে দফায় দফায় বর্বর নির্যাতন চালায় ইউপি সদস্য!

494

কুড়িগ্রামে মসজিদের সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে অমানবিক নির্যাত’নের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাতব্বদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক ইউপি সদস্যসহ দু’জনকে আটক করেছে কচাকাটা থানা পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) বেলা ১১টায় বলদিয়া ইউনিয়নের মংলারকুটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


আটকরা হলেন, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রাজু আহম্মেদ এবং স্থানীয় মাতব্বর জাফর আলী মুন্সি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় দু’সপ্তাহ আগে মংলারকুটি মসজিদের সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি চুরি হয়। ওই চুরিতে জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের জসীম উদ্দিনের ছেলে কিশোর মাহাবুবুর রহমানকে (১৫) বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান ইউপি সদস্য রাজু আহম্মেদ, জাফর আলী মুন্সি, আব্দুল হান্নানসহ ১০-১২ জন।

পরে ওই কিশোরকে জাফর আলী মুন্সির বাড়ির আঙিনায় প্রথমে ইউক্লিপ্টাস গাছে বেঁধে নির্যাত’ন করেন তারা। পরে দ্বিতীয় দফায় বাঁশডলা দিয়ে আবারও বর্বর নির্যাত’ন করে অভিযুক্তরা। এ সময় কিশোরের মা মালেকা বেগম ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে তার সামনে নির্যাত’নের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। একপর্যায় কিশোর মাহবুবুর জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তার মায়ের সঙ্গে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন নির্যাত’নকারীরা। এ ঘটনায় ওই কিশোর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন মা।

এই অমানবিক ঘটনা এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি হলে রাতেই অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চালিয়ে দু’জনকে আটক করে পুলিশ।
তবে ইউপি সদস্য রাজু আহম্মেদের পরিবারের দাবি নির্যাত’নের শিকার কিশোরকে উদ্ধার করতে সেখোনে গিয়েছিলেন তিনি।

এ বিষয়ে কচাকাটা থানার ওসি মামুন অর রশিদ জানান, সংবাদ শোনার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দু’জনকে আটক করা হয়েছে এবং মা’মলার প্রস্তুতি চলছে।
পূর্বপশ্চিমবিডি/আরএইচ