রাজাকারের তালিকা স্থগিত নয়, বাতিলের দাবি সমাজতান্ত্রিক দল বরিশাল জেলা শাখার

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকাশিত রাজাকারের তালিকা স্থগিত নয়, বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখা। একই সঙ্গে বিতর্কিত এ তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করায় মন্ত্রী মোজাম্মেল হকের পদত্যাগ দাবি করেছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বরিশাল জেলা বাসদের ফকিরবাড়ি রোডের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযোদ্ধাদের যুক্ত করে আলাদা কমিশন গঠন করে রাজাকারের তালিকা প্রস্তুত, সদ্য প্রকাশিত তালিকা স্থগিত নয়, বাতিল এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের পদত্যাগ দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা বাসদের সদস্যসচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত রাজাকারের তালিকাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অপমানজনক। কারণ এতে এমন সব ব্যক্তির নাম এসেছে, যারা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, লড়াই করেছেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে। কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছেন। এমনকি শহীদ পরিবারের সদস্যদের নামও রয়েছে তালিকায়। অথচ এতে নেই চিহ্নিত অনেক রাজাকারের নাম।

মনীষা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে সদ্য ঘোষিত রাজাকারের তালিকা স্থগিত করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। এটি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে আমরা মন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করছি। যদি তিনি পদত্যাগ না করেন, তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, দলীয় ও আমলানির্ভর মন্ত্রণালয়টি থেকে আবারও রাজাকারের তালিকা প্রণয়ন করলে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের নাম আসতে পারে। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের যুক্ত করে আলাদা কমিশন গঠনের মাধ্যমে রাজাকারের তালিকা ফের প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি রাজাকারের তালিকা তৈরির সঙ্গে যুক্তদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মনীষা চক্রবর্তী বলেন, স্বরাষ্ট্র ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অবহেলা এবং ব্যর্থতায় রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের নাম এসেছে। রাজাকারদের তালিকা তৈরি করতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে ৬০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছিল। সে টাকার হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করারও দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বাসদের আহ্বায়ক ইমরান হাবিব রুমন, বরিশাল রিকশা-ভ্যান শ্রমিক চালক ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল মল্লিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানি বাহিনীকে নানাভাবে সহায়তা করেছে, সেসব রাজাকার আলবদর ও আলশামসের তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিজয় দিবসের আগের দিন ১৫ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ১০ হাজার ৭৮৯ রাজাকারের নামের প্রথম তালিকা প্রকাশ করেন আ ক ম মোজাম্মেল হক। কিন্তু এ তালিকায় অনেক মুক্তিযোদ্ধার নামও ঢুকে পড়েছে, যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। রাজাকারের তালিকায় নাম ওঠে বঙ্গবন্ধুর সহপাঠী ও বন্ধু মজিবুল হক এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর, যা এ তালিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে দুঃখ প্রকাশ করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এর পর বিতর্কের মুখে বুধবার ওই তালিকা স্থগিত করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। জানানো হয়, পরে যাচাই-বাছাই করে নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *