৬ মাস না যেতেই ১৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি দশা

রাজশাহী নগরীর টিকাপড়া মোহাম্মদপুর এলাকার সড়কে খানাখন্দ দীর্ঘদিনের। মাসখানেক আগে বৃষ্টির ফাঁকে সেটি মেরামত করে সিটি কর্পোরেশন। মাঝে টানা বৃষ্টিতে পানি জমেছিল সেখানে। সরানোর লোক ছিলো না। এতে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচলের কারণে আবারও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এই সড়কে প্রতিদিন চলাচলকারীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

নগরীতে এমন বেহাল সড়ক রয়েছে অনেক। এসব খানাখন্দ তৈরি হয়েছে গ্যাস কিংবা পানি সংযোগের জন্য খোঁড়া গর্ত থেকে। যদিও এমন গর্ত সংস্কারসহ ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কারে ১৭৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। কিন্তু ছয় মাস না যেতেই সড়কগুলো ফিরে গেছে আগের অবস্থায়।

রাসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, রাজশাহী নগরীতে সব মিলিয়ে ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর একটি বড় অংশ গ্যাস ও পানি সংযোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৯৭ দশমিক ১৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের রাজশাহী নগরীতে হোল্ডিং সংখ্যা ৪৭ হাজার। নগরীর স্থায়ী বাসিন্দা ৪ লাখ ৯০ হাজার ৩২২ জন। এর বাইরে আরও ৪ লাখ মানুষ অস্থায়ীভাবে বসবাস করেন নগরীতে। নগরজুড়ে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত যাবাহনের চাপ।

রাসিকের প্রকৌশল শাখা সূত্র জানায়, প্রতি বছরই ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কিছু কিছু মেরামত হচ্ছে। গ্যাস সংযোগ শুরুর বছরই (২০১১-২০১২) ৩ কোটি ৮৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি প্যাকেজ মেরামত কাজ শেষ হয়। গত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে তিনটি গ্রুপে গ্যাস-পানি সংযোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে মেরামতে ব্যয় হয় ৮ কোটি ৬৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা। রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ থেকে এসব সড়ক মেরামত করা হয়। সড়ক সংস্কারে সব মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে ১৭৩ কোটি টাকা।

rajshahi-road

তবে বাস্তবের চিত্র ভিন্ন। নগরীর প্রধান কয়েকটি সড়ক বাদে বেশির ভাগ সড়ক এখন খানাখন্দে ভরা। এসব খানাখন্দ তৈরি হয়েছে গ্যাস ও পানি সংযোগের পর খোঁড়া সড়ক মেরামত না করায়। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

নগরীর টিকাপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহরিয়ার ইমন সোহেল বলেন, মোহাম্মদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরেই খানাখন্দে ভরা। সম্প্রতি এটি যেনতেনভাবে মেরামত করা হয়েছিলো। বৃষ্টির পানি জমে রাস্তাটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।

এদিকে মসজিদ মিশন স্কুল থেকে বড়কুটি এবং বড়কুঠি থেকে দরগা পর্যন্ত সড়কের পাথর উঠে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় ক্ষতবিক্ষত সড়ক। সেখানকার বাসিন্দারা কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। মেরামতের সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।

নগরবাসী বলছেন, অধিকাংশ সড়ক মেরামত হচ্ছে বর্ষায়। বিশেষ করে বৃষ্টির ফাঁকে। ফলে সেগুলো আর টিকছে না। তাছাড়া সড়ক রক্ষণাবেক্ষণেও নজর নেই সিটি কর্পোরেশনের। পানি জমে তৈরি হচ্ছে খানাখন্দ। নিম্নমানের কাজ করায় এমনটি হচ্ছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক জানান, এসব ভাঙাচোরা সড়ক পর্যায়ক্রমে মেরামত করা হচ্ছে। কিছু সড়ক মেরামত করা হয়েছে। অন্যগুলোর কাজও শুরু হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সড়কগুলো সংস্কার হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *